বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

ভরা মৌসুমে টমেটোর দাম ঊর্ধ্বমুখী

নিজস্ব প্রতি‌বেদক

বিয়ে ও পিকনিক পার্টিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রসনাবিলাসের অন্যতম অনুসঙ্গ টমেটো। খাবার যতই উন্নত বা ভালো হোক না কেন টমেটোর সালাদ ছাড়া যেন পরিপূর্ণ তৃপ্তি আসে না। কিš এ বছর টমেটোর উচ্চমূল্যে অনেকেরই সে আশা নিরাশায় পরিণত হচ্ছে।

গত মৌসুমের শুরুতে কিছুটা দাম বেশি থাকায় চাষিরা লাভবান হলেও ভরা মৌসুমে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশা হয়ে পড়েন অনেকে। যে কারণেই চাষাবাদ করেননি অনেকে।
শীতকাল মূলত শাক-সবজির ভরা মৌসুম। এ মৌসুমে সকল প্রকার সবজির দাম কমলেও টমেটোর দাম রয়েছে চড়া।

খুলনাঞ্চলের মধ্যে রূপসা উপজেলার ৫ ইউনিয়নের বৃহৎ এলাকা জুড়ে প্রতিবছর চাষ হয় গৃস্মকালীন টমেটো। গেলো বছর চাষিরা আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় এ বছর মুখ ফিরিয়ে নেয় অনেকে। যে কারণে এ অঞ্চলে এ বছর টমোটোর চাষ হয়েছে অনেক কম। উপজেলার পদ্মবিল, পুটিমারি ও জাবুসা বিলের প্রান্তিক চাষিদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

উপজেলার আবাদ যোগ্য ৮৫১৩ হেক্টর জমির মধ্যে গত মৌসুমে ২৮৮ হেক্টরে টমেটো চাষ হলেও এ মৌসুমে হয়েছে মাত্র ১৬৯ হেক্টর জমিতে। কমেছে প্রায় ১১৯ হেক্টর জমির চাষাবাদ।

পদ্ম বিলে গত বছরের সফল চাষি আঃ সাত্তার বলেন, “৩০ বিঘা ঘেরের বেড়িতে প্রায় ১০ হাজার টমেটোর চারা রোপণ করেছিলাম। তাতে আনুমানিক ৪০০ মণের অধিক টমেটো বিক্রি করি। আমার খরচ হয়েছিল ৩ লাখ টাকা। টমেটো বিক্রি হয় ২ লাখ টাকার কিছুটা বেশি। শুরুতে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও শেষের দিকে তা ২টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে অনেক পরিশ্রম করে চাষাবাদ করি। কিন্তু লাভের মুখতো দূরের কথা বরং লোকসানের ঘানি টানতে হয়েছে। এমন হলে আর সেই ফসল দ্বিতীয়বার চাষ করার আগ্রহ থাকে না। এ কারণেই এ বছর আর টমেটো চাষ করেনি। এবছর লাউয়ের চাষ করেছি। শাক বিক্রি করেই আলহামদুলিল্লাহ ২০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।”

এ বছর টমেটো চাষ করে লাভবান হয়েছেন এমন একজন সফল কৃষক আলাইপুরের ফজল আহমেদ। তিনি বলেন, “৩ বিঘা ঘেরের বেড়িতে ৩ হাজার ৬০০ চারা লাগিয়েছি। তাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মণ টমেটো বিক্রি করেছি। উৎপাদনের শুরুতে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। বর্তমানে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। খরচ বাদে বেশ লাভ হয়েছে।”

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা মুমু বলেন, “গত বছরের তুলনায় টমেটো চাষ কিছুটা কম হলেও অনেকাংশে এ বছরে চাষীরা সফল হয়েছেন। আমাদের জায়গা থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করছি।”

রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা বলেন, “গত বছর বাজারে টমেটোর দাম ভাল না পাওয়ায় এ বছর আবাদ কম হয়েছে। বেশিরভাগ কৃষক এবার টমেটোর পরিবর্তে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, বেগুন, শসাসহ অন্যান্য সবজি আবাদের দিকে ঝুঁকেছে। আমরা কৃষকদেরকে সার্বক্ষণিক নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য পরামর্শ প্রদান করছি।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন